প্লেটোর রিপাবলিক - সরদার ফজলুল করিম, আলোচক: পলাশ কুমার রায়
প্রাচীন দর্শন রাষ্ট্র- তত্ত্ব সাহিত্য এবং সমাজতত্ত্বের অতুলনীয় গ্রন্থ রিপাবলিক । রিপাবলিক নাটকের সংলাপ আকারে রচিত। এই গ্রন্থকে পঁচিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। ১৯৭৪ সনে এই অনুবাদের প্রথম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়। মানুষের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলি দার্শনিক ও চিন্তাবিদ প্লেটো তাঁর অনবদ্য সংলাপের রীাততে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছে। তাঁর লিপিবদ্ধ যে সমস্যা প্রায় আড়াই হাজার বছর পরের বর্তমান পৃথিবী মানুষের জীবনেরও মৌলিক সমস্যা। মনুষ্যজীবনের এই অশেষ অভিযাত্রায় প্লেটোর রিপাবলিক এক অনন্য সাথি এবং পথপ্রদর্শক। প্লেটোর রিপাবলিক বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম এক চিরায়ত সৃষ্টি। প্লেটোর রিপাবলিক একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা, একটি ইউটোপিয়া বা কল্পচিত্র। প্লেটোর সংলাপরাজির অবিস্মরনীয় নায়ক সক্রেটিস। প্লেটো মনে করেন রাষ্ট্রীয় শাসনক্ষমতা অজ্ঞদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে যতক্ষণ না দার্শনিক অর্থাৎ জ্ঞানীর হস্তে ন্যস্ত হবে ততক্ষণ মানুষের মুক্তি নেই। রাষ্ট্রীয় শাসন দার্শনিকদের হাতে ন্যস্ত করার দুটি পথ: হয় শাসক দার্শনিক হবে, নয়তো দার্শনিককে শাসক হতে হবে। রিপাবলিক একটি নাটক। ঘটনার নয়, যুক্তির নাটক। গ্রন্থের মধ্যে যুক্তি হচ্ছে চরিত্র। সক্রেটিসকে বলা চলে যুক্তির কথক, যুক্তির উপস্থাপক । এ নাটকের শুরু কোনো নাটকীয় বিস্ফোরণ, দৃশ্য উম্মোচন বা ঘন্টাধ্বনিতে নয়। সক্রেটিস তার সহচর গ্লকনকে সঙ্গে নিয়ে পাইরিউস বন্দরের অশ্বদৌড় দেখে এথেন্স প্রত্যাবর্তন করছেন। এমন সময়ে সিফালাসপুত্র পলিমারকাস তাঁদের প্রত্যাবর্তনের পথরোধ করে তাঁদের গৃহে রাত্রি যা পনের জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর নিরতিশয় অনুরোধ উপেক্ষা করতে না পেরে সক্রেটিস সঙ্গী সমভিব্যাহারে সিফালাসের গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করেন। সেই গৃহে বৃদ্ধ সিফালাসের সঙ্গে আলোচনাক্রমে বার্ধক্যের লাভালাভের প্রশ্ন ওঠে । এ সমস্যার প্রশ্নোত্তর থেকে ‘ন্যায় কী’ এ প্রশ্নও এক পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবে উত্থাপিত হয়। সংলাপের মাধ্যমে এর পরে আলোচনাটি অগ্রসর হতে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই
মার্জিত মন্তব্য প্রত্যাশিত